আজ মঙ্গলবার, ১৫ই ফাল্গুন ১৪৩০, ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২৪

মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক বঙ্গবন্ধুশেখ মুজিবুর রহমান

মেহেদি হাসান

শাহাদাত আনসারী

পনেরো আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে মানব ইতিহাসের বর্বরতম হত্যাকান্ডের শিকার হয়ে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে শাহাদাতবরণ করেন। এমনকি অন্তঃসত্ত্বা নারী ও নাবালক শিশুও খুনিচক্রের নিষ্ঠুরতা থেকে সেদিন রক্ষা পায়নি।

বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি বাঙালির অধিকার এবং স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদান রাখেন। ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৫৮ এর সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনসহ এদেশের সাধারণ মানুষের আকাক্ষা পূরণের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে তিনি এই জাতিকে নেতৃত্ব দেন। তিনি ছিলেন যেমন একজন দেশপ্রেমিক বাঙালি, তেমনি ছিলেন একজন ঈমানদার মুসলমান। বঙ্গবন্ধুর সারা জীবনের স্বপ্ন ও কর্মপ্রয়াস ছিল বাংলাদেশের জনগনের শোষণ ও মুক্তির অন্বেষণে। তার হৃদয় ছিল উদারনৈতিক অসাম্প্রদায়িক, সাম্য ও মৈত্রীর চিরন্তন আদর্শে উদ্ভাসিত। বঙ্গবন্ধু তার সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে যে যুগান্তকারী অবদান রেখে গেছেন তা সমকালীন ইতিহাসে বিরল। 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পথিকৃত এই বাঙালি সিংহ পুরুষ ১৭ মার্চ ১৯২০ সালের গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা শেখ লুৎফর রহামন এবং মাতা সায়েরো খাতুন। কৃষকের অতি কাছে তার জন্ম বলে কৃষক, শ্রমিক, খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের দুঃখ-বেদনা আপন হৃদয়ে তিনি অনুভব করতে পেরেছিলেন। আর পেরেছিলেন বলেই এদেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য তিনি আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন। আজকের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সে সংগ্রামেরই পরিণতি।

কিশোর বয়সে তিনি শিশু-কিশোরদের নিজ নেতৃত্বে সংগঠিত করতে গিয়ে তার সাংগঠনিক দক্ষতা ফুটে উঠে। এরই প্রমাণ আমরা পাই ১৯৩৮ সালে গোপালগঞ্জ মহকুমা পরিদর্শনে আসা বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ও খাদ্যমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর উপস্থিতিতে মুজিবের প্রতিবাদী নেতৃত্বের ভূমিকায়। মিশন স্কুলের ভাঙ্গা ছাদ দিয়ে পানি পড়া বন্ধে নেতৃদ্বয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শেখ মুজিব বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছিলেন, “আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।” বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের স্রষ্ঠা। তার দীর্ঘ দিনের সংগ্রাম, নেতৃত্ব এবং আত্মত্যাগের ফলেই বাঙালি জাতি প্রথমবারের  মতো তাদের নিজস্ব একটি আবাসভূমি লাভের সুযোগ পেয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বেই বাঙালি জাতি অনুপ্রাণিত ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঔপনিবেসিক শাসন, শোষণ তথা পাকিস্তানি আধিপত্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার নাগপাশ থেকে মুক্ত করেছে আমাদের প্রিয় স্বদেশভূমিকে।

বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধকালীন রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং দূরদর্শিতার অধিকারী ছিলেন। তিনি পাকিস্তানি সামরিক চক্রের দুরভিসন্ধি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তিনি পাকিস্তানি শাসক চক্রের লুটেরা মনোভাব বুঝতে পেরেই দীর্ঘকাল থেকে স্বপ্ন দেখেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার। সে অনুযায়ী তিনি ধীরে ধীরে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচী এবং কর্মকান্ড নিয়ে অগ্রসর হন।

১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট থেকেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালিদের নিকৃষ্ট জাতি মনে করতে থাকে এবং তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানকে কলোনি হিসেবে বিবেচনা করতো। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার, লুট ও বর্বরতার বিরুদ্ধে যে সাহসী মহামানব দীর্ঘদিন সংগ্রাম করেছেন এবং দীর্ঘ ১২টি বছর জেলে কাটিয়েছেন তাঁর নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি পাকিস্তানি সামরিক ও লুটেরা চক্রের রক্ত চক্ষুকে ভয় পাননি। ১৯৬৯ সালে বাংলার কৃতজ্ঞ মানুষ তাকে ভূষিত করেছিল বঙ্গবন্ধু উপাধিতে। বঙ্গবন্ধু এবং বাঙালি জাতি অত্যন্ত ভাগ্যবান এই কারণে যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজনৈতিক সহকর্মী ও সহযোদ্ধা হিসেবে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম. মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামানের মতো মহৎ, সৎ, মহান দেশপ্রেমিক পেয়েছিলেন।

শেরে বাংলা এ কে  ফজলুল হক , হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা ভাসানী প্রমুখ মহৎ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন।  ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচী পেশ করেন। বঙ্গবন্ধু কর্তৃক প্রস্তাবিত ৬ দফা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ এবং বাঁচার দাবি।

পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক ভাষণ বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ। এই অসাধারণ ভাষণে তিনি উচ্চারণ করেছিলেন, আর দাবিয়ে রাখবার পারবা না। বলেছিলেন “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির মংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।” বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রকৃতপক্ষে ৭ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। নইলে সেদিনই খুনি ইয়াহিয়-টিক্কা চক্র ঢাকার রাস্তায় রক্ত গঙ্গা বইয়ে দিত। “এবারের সংগ্রাম ” এ কথাটি উচ্চারণ করে তিনি বাঙালিকে স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। জ্ঞানপাপী ছাড়া সবাই বুঝতে পারে যে এটাই মূলতঃ স্বাধীনতার ঘোষণা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত ১২ টার পর সর্বত্র বেতারযোগে পাঠাবার জন্য নিম্নোক্ত বাণীটি সেন্ট্রাল টেলিগ্রাফ অফিসে জনৈক বন্ধুকে ডিকটেশন দেনঃ

ÒThe Pakistan Army has attracted police lines at Rajarbagh and East Pakistan Rifles Headquarters at midnight. Gather Strength to resist and prepare for a war of independence.”

(পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী মাঝরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইন এবং পিলখানায় পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস হেড কোয়ার্টার আক্রমন করেছে। প্রতিরোধ করবার জন্য এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য শক্তি সঞ্চয় করুন।)

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো মহান নেতার প্রতি এবং সাত কোটি বাঙালির প্রতি শ্রদ্ধা ও মমত্ববোধ থাকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছাত্রী তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে ভারতবাসী আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে সর্বাত্মক সাহায্য ও সহযোগিতা দান করেন। বঙ্গবন্ধুর বিশাল ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ এবং পাকিস্তানি বর্বর সৈন্যদের গণহত্যায় হতবাক পশ্চিমা গণমাধ্যম আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ অবলম্বন করে।

বঙ্গবন্ধু যেমন ছিলেন একজন বাঙালি, তেমনি ছিলেন একজন ঈমানদার মুসলমান। তিনি ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচনের প্রাক্কালে পাকিস্তান বেতারে জাতির উদ্দেশ্যে যে ভাষণ দিয়েছিলেন তাতে ইসলামের চিরন্তন কল্যাণকামী রুপের প্রতিফলন ঘটেছে। বঙ্গবন্ধু তার এ অমূল্য বক্তব্যে রাসূল (সঃ) এর ইসলাম, ইসলামের সুমহান শিক্ষা, অন্যায়, অত্যাচার শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে ইসলামের আপোষহীন অবস্থান, প্রতারণা, প্রবঞ্চনা ও মুনাফেকীর বিরুদ্ধে ইসলামের শিক্ষার প্রতি তার সুদৃঢ় আঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বঙ্গবন্ধুর সারা জীবনের রাজনৈতিক কর্মকান্ডের মূলে ছিল এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সুদৃঢ় প্রচেষ্টা। কিন্তু পাকিস্তানের কায়েমী স্বার্থবাদী শাসকগোষ্ঠী এবং ইসলামের তথাকথিত লেবাসধারী চক্র সবসময় বঙ্গবন্ধুকে ইসলাম বিরোধী বলে চিহ্নিত করার অপপ্রয়াস চালিয়েছে। স্বাধীনতার পরও ইসলামের লেবাসধারী গোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত দলকে ইসলাম বিরোধী বলে অব্যাহতভাবে প্রচার প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে।

জাতির জনক ধর্মকে কখনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে চাননি। তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে সকল মানুষের স্ব-স্ব ধর্মের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। ১৯৭২ সালের ৪ অক্টোবর খসড়া সংবিধানের উপর আলোচনার জন্য যে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, সে অধিবেশনে তিনি ঘোষণা করেন ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষের ধর্ম-কর্ম করার স্ব-স্ব অধিকার অব্যাহত থাকবে। আমরা আইন করে ধর্মচর্চা বন্ধ করতে চাইনা এবং তা করবোও না। মুসলমানরা তাদের ধর্ম-কর্ম পালন করবে, তাদের বাধা দেয়ার ক্ষমতা রাষ্ট্রের কারো নেই। হিন্দুরা তাদের ধর্ম-কর্ম পালন করবে, কেউ তাদের বাধা দিতে পারবে না। বৌদ্ধরা তাদের ধর্ম, খ্রিষ্টানরা তাদের ধর্ম পালন করবে কেউ তাদের বাধা দিতে পারবে না। আমাদের আপত্তি হলো এই যে, ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না। যদি কেউ বলে যে, ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হয়েছে, আমি বলব, “ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

জাতির জনক জীবনে একটি বারের জন্যও তাঁর অঙ্গীকার ভঙ্গ করেননি। এ দৃঢ় মানসিকতার জন্য তাকে সারা জীবন জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। ৭০ এর নির্বাচনে শতকরা ৯৫ জন মুসলমানের দেশে ইসলাম বিরোধী কোন আইন পাশ করা হবে না বলে তিনি যে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছিলেন তার সাড়ে তিন বছরের শাসনামলের কর্মকান্ড পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যে, তিনি তাঁর সেই প্রতিশ্রুতি পালনে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হননি।

বঙ্গবন্ধু তাঁর স্বল্পকালীন শাসনামলে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জনমানসে ইসলাম প্রচার ও প্রসারে যে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন সমকালীন মুসলিম বিশ্বে এর দৃষ্টান্ত বিরল। তিনি ১৯৭৫ সালের ২৮ মার্চ এক আধ্যাদেশ বলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। যা এখন সরকারী অর্থে পরিচালিত মুসলিম বিশ্বের অন্যতম একটি বৃহৎ সংস্থা হিসেবে নন্দিত। এ প্রতিষ্ঠান থেকে পবিত্র কুরআনের বাংলা তরজমা, তাফসীর, হাদীস গ্রন্থের অনুবাদ, ইসলামী অর্থনীতি, সমাজনীতি ইত্যাদি নানা বিষয়ে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ইসলাম তথা ধর্মকে কতটুকু ভালবাসেন তা কেবল বঙ্গবন্ধু জ্ঞাত ব্যক্তিরাই সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করে ইসলাম প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু যে অসামান্য অবদান রেখেছেন এ জন্য জাতি তার কাছে চির কৃতজ্ঞ।

পাকিস্তানি আমলে ঢাকার বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নাম ছিল রেসকোর্স ময়দান। এখানে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার নামে চলতো জুয়া হাউজি ও বাজিধরা প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বাজিতে হেরে অনেক মানুষ সর্বস্বান্ত হয়ে যেতো। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করে রেসকোর্স ময়দানে অনুষ্ঠিত ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা বন্ধ করেন এবং রেসকোর্স ময়দানের নাম পরিবর্তন করে নাম রাখেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। আমাদের নবী (সঃ) বৃক্ষ রোপণের প্রতি জোর তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: যদি মনে কর আগামীকাল কিয়ামত হবে, তবুও আজ একটি বৃক্ষের চারা রোপণ করো। মহানবী (সঃ) এর শিক্ষায় অনুপ্রাণিত হয়ে রেসকোর্স ময়দানের অনৈসলামিক কর্মকান্ডের স্মৃতিচিহ্নিত মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে তিনি সেখানে বৃক্ষ রোপণ করে সেই স্থানের নাম রাখেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। ঢাকা মহানগরীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বৃক্ষরাজী বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বহন করে চলেছে।

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু সর্ব প্রথম হাক্কানী আলেম-ওলামাদের সংগঠিত করে পবিত্র ইসলামের সঠিক রুপ জনগণের সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁর দিক নির্দেশনা ও পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকায় সীরাত মজলিশ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয়। সীরাত মজলিশ ১৯৭৩ ও ৭৪ সালে রবিউল আওয়াল মাসে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম বৃহত্তর আঙ্গিকে ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) মাহফিল উদযাপনের কর্মসূচী গ্রহণ করে। সরকার প্রধান হিসেবে বঙ্গবন্ধু বায়তুল মুকাররম মসজিদ চত্বরে মাহফিলের শুভ উদ্বোধন করেন। একজন সরকার প্রধান হিসেবে ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) মাহফিলের উদ্বোধন উপমহাদেশের ইতিহাসে প্রথম দৃষ্টান্ত। এরই ধারাবাহিকতায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনে প্রতিবছর জাতীয়ভাবে ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) মাহফিল উদযাপন হয়ে আসছে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মুসলিম বিশ্বের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ১৯৭৪ সালে লাহরে অনুষ্ঠিত ইসলামী সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) অধিবেশনে যোগদান করেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আরব-ইসরাঈল যুদ্ধে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সমর্থনে ১ লক্ষ পাউন্ড চা, ২৮ সদস্যের মেডিকেল টিমসহ একটি সেচ্ছাসেবী বাহিনী প্রেরণ করা হয়। তিনি ওআইসি সম্মেলনে যোগদান করে ইসলাম ও বাংলাদেশ সম্পর্কে মুসলিম নেতৃবৃন্দের সামনে যে বক্তব্য তুলে ধরেন এতে আরবসহ মুসলিম বিশ্বে বাংলাদেশের ভাব-মর্যাদা সমুন্নত হয় এবং মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দের সাথে সুদৃঢ় ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ে ওঠে।

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ছিলেন এ দেশের অবিসম্বাদিত জননেতা, ইতিহাসের মহানায়ক। তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ইসলামে বিশ্বাসী ছিলেন। তার সারা জীবনের স্বপ্ন ও কর্মপ্রয়াস ছিল বাংলার জনগনের শোষণ ও মুক্তির অন্বেষণে। তিনি না জন্মিলে এ বাংলাদেশকে আমরা কল্পনা করতে পারতাম না। তিনি বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিয়েছিলেন, সৃষ্টিতে সহায়তা করেছিলেন জাতির জন্য স্বাধীন এ ভূখন্ডের, যার নাম বাংলাদেশ। বাঙালি জাতি কখনও বঙ্গবন্ধুকে ভুলতে পারে না। আর এ কারণেই অন্নদাশঙ্কর রায় লিখেছেন-


“যতদিন রবে পদ্মা মেঘনা গৌরি যমুনা বহমান

ততদিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।”


লেখক: শাহাদাত আনসারী


[ব্যাংক কর্মকর্তা ও কলাম লেখক]

ansarisahadat4@gmail.com


মন্তব্য সমুহ
০ টি মন্তব্য
মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন
এই শ্রেনির আরো সংবাদ

ফিচার নিউজ