আজ সোমবার, ২১শে ফাল্গুন ১৪৩০, ৪ঠা মার্চ ২০২৪

হুসনাকানা-২

News Desk

মাদক নির্মূল অভিযান

কয়্যাকদিন থাইক্যা একটা কথা খালি ঘুরপাক খাইছে মোটাহুঁসার মোটা মাথাতে। এ্যাক্যাক সময় শুরু হইছে এ্যাক্যাক অভিযান। অভিযান কথাটার আসল মানে কি, হাঁরা বুঝিন সভায় জানিন্যা। যারা অভিযান চালায় তারাও এ্যার আসল মানে জানে কি না, ওপর আলাই জানে। এট্যা জানার লাইগ্যা হাঁরঘে গাঁয়ের বুড়হা মাস্টারকে পুঁছ করনু “হাঁজি নানা, অভিযান মানে কিজি? দাদো পৈতদাদোর আমল থাইক্যা খালি শুইন্যাই আসছি এই অভিযান, সেই অভিযান, কিন্তু এ্যার আসল মানে, মনে হইছে কিছুই বুঝতে পারছিন্যা।”

: তুই আসলি এ্যাকটা হুসনা কানা হে। এ বয়সে কি আর সবকিছু মনে থাকে। থাম, ডিক্সনারিটা লাইড়্যা চাইড়্যা তোকে কহছি। 

: বুড়িহ্যা গেল্যা তাও তোমার নারী লাড়া-চাড়ার ব্যারমটা গ্যালোনা, তাও ফের ডিসকো নারী।

: আরে ভাই শুন শুন, এট্যা বেটিছাইল্যাও লয় আর ডিসকো নারীও লয়, এট্যা হইলো এমন একটা বই যাতে সব কিছুরি মানে ল্যাখা থাকে। 

: ও আচ্ছা তাই কহ। ল্যাও, লাইড়্যা চাইড়্যা কহো তাহিলে।

: অভিযনা মানে হইলো, শত্রু দমনের লাইগ্যা সদলবলে যাত্রা।

: ও...... এব্যার বুইঝ্যাছি। এ পইজন্ত (এখন পর্যন্ত) তাহিলে যতগ্যালা অভিযান হইয়্যাছে সব গ্যালায় হাঁরঘে শত্রæর বিরুদ্ধে। এগল্যাতো হামি জানি। আগে এক সময় কলেরা রোগের আক্রমন হইতোক, তখন এ্যাকে নির্মূল করার লাইগ্যা শুরু হইলো ‘কলেরা নির্মূল অভিযান।’ এখোন কলেরা নাই, তেবে তার ছেটো ভাই ডাইরিয়্যা আছে। পত্তেক বছর দ্যাশে অনুষ্ঠান কইর‌্যা বসন্তকে বরণ করে, ফের এক সময় বসন্তকে দ্যাশ থাইক্যা তাড়াইব্যার লাইগ্যা শুরু হইয়্যাছেলো ‘বসন্ত নির্মূল অভিযান’। এখন আর গুঠি বসন্ত হয়ন্যা তেবে মুরগী বসন্ত (চিকেন পক্স) হয়। এভাবে ম্যালেরিয়া নির্মূল অভিযান, জঙ্গী নির্মূল অভিযানও সফল হইয়্যাছে। 

তেবে পরে মশা নিধন অভিযান, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান, পরিবেশ রক্ষায় পলিথিন হটাও অভিযান সফল হয়নি। হালে শুরু হইয়্যাছে মাদক নির্মূল অভিযান। অভিযানটা নাকি বেশ ভালোই চলছে। যারা মাদকের সতে যুক্ত তারা বেলে বন্দুক যুদ্ধে মারাও যাইছে। মাদকের খাদক যারা তারা ধরাও পড়ছে। হার মনে হয় এগল্যাকে ধইর‌্যা জেলে থুইলে সরকারেরই ক্ষতি। ঐখ্যানে বেলে টাকা থাকালে বাঘের চোখও পাওয়া যায়। এই অভিযান লিয়্যা ম্যালা কথা বাতাসে ভাইস্যাও ব্যাড়াইছে। কেহু কেহু কহিছে, মাদকের যারা সম্রাট তারাকে বাঁচিয়্যাই বেলে মাদক নির্মূল অভিযান চলছে। যারা অভিযান চালাইছে তারঘেও কেহু কেহু নাকি মাদক ব্যবসায়ীরঘে সতে জড়িত আছে। তেবে র‌্যাবের প্রধান কিন্তু মাদকের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা কইর‌্যাছে। 

সেদিন এক নানা কহিছে যে, পুলিশসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা যুতি মনে করে যে দ্যাশে কুনু অপরাধের কাম করতে দ্যাওয়া হইবেনা, তেবে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি কুনু কিছুই হইবেনা। কথাটা কিন্তু হানডেড পার্সেন (এক’শ ভাগ) সত্য, কিন্তু... দিল্লীতো বহুত দুর হ্যায়, তাই ন্যা।

এ প্রসঙ্গে বিলাইয়ের গল্পটা না কহিলেই লয়। এক ইন্দারার একটা মরা বিড়াল পইড়্যা, পইচ্যা পানি গোন্ধাইতে লাগলো। গাঁয়ের এক মুরুব্বী গ্যালো হুজুরের কাছে ফতুয়া লিতে পানি কিভাবে পাক করা যায়। হুজুর কহিলেন, ইন্দারা থাইক্যা ১০বালটি পানি তুইল্যা ফেল্যা দ্যাওগা পানি পাক হইয়্যা যাইবে। তাই করা হইলো, কিন্তু গোন্ধান যায়ন্যা। এ্যার পর হুজুর বাতলাইলেন এব্যার ২০বালটি, না হইলে ৪০বালটি তুইল্যা ফেলতে হইবে। তাতেও কুনু কাম হইলো না পানি আরো গোন্ধাইতে লাগলো। এব্যারতো মুরুব্বী ফায়্যার। আপনি ক্যামন ফতুয়াবাজ হুজুরহে, আপনার কথাতে বালটির বালটি পানি তুইল্যা ফেলাও কাম হইছেনা। যতদিন যাইছে পানি আরো তত বেশি গোন্ধাইছে। এব্যার হুজুর কহিলেন, ইন্দারা থাইক্যা মরা বিলাইটা কি তুইল্যাছো?

জ্ঞানী মানুষেরা কোহিছে, পানি পাক করতে হইলে য্যামন ইন্দারা থাইক্যা মরা বিলাই তুইল্যা ফেলতে হইবে, ত্যামন মাদক নির্মূল অভিযান সফল করতে হইলে, মাদকের যারা ঈশ্বর পিতা (গড ফাদার) তারাকে নির্মূল করতে হইবে। হজ্বে পাঠাইলে হইবে না। টাইটক্যা-ফুইটক্যারাকে মারলে-ধরলে মাদক নির্মূল অভিযান কি সফল হইবে? সাপ মারতে সাপের ল্যাজে মারলে কি হইবে মারতে হইবে মাথায়।

লেখক : মাহবুবুল আলম, গম্ভীরার নানা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

মন্তব্য সমুহ
০ টি মন্তব্য
মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন
এই শ্রেনির আরো সংবাদ

ফিচার নিউজ