আজ শুক্রবার, ৩০শে শ্রাবণ ১৪২৭, ১৪ই আগস্ট ২০২০

ঐতিহাসিক তহাখানা

এম.এ.মাহবুব : চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে তহাখানা। জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার পিরোজপুর এলাকায় অবস্থিত। এখানে একই চত্ত্বরে তহাখানাসহ আরো দুটি স্থাপনা রয়েছে যার একটি হলো তিন গম্বুজ বিশিষ্ট তহাখানা মসজিদ ও হযরত শাহ্ নেয়ামতউল্লাহ (রহঃ) এর সমাধী বা মাজার।

পিরোজপুর এলাকার একটি বড় পুকুরের পশ্চিমপাড় ঘেষে দাড়িয়ে থাকা মোঘল সাশনামলে নির্মিত সুরম্য একটি ভবন ইতিহাসের সাক্ষি হয়ে দাড়িয়ে আছে। দৃশ্যত এটি দ্বিতল বিশিষ্ট ভবন হলেও উইকপিডিয়ায় এটিকে তিনতলা ভবন হিসবে উল্লেখ করা হয়ছে। কথিত আছে মুখল সম্রাট শাহজাহানের পুত্র সুলতান শাহ্ সুজা (শাসনামল ১৬৩৯-৫৮খ্রিঃ মাতান্তরে ১৬৩৯-১৬৬০খ্রিঃ) হযরত শাহ নেয়ামতউল্লাহর শীতকালীন বসবাসের জন্য তাপনিয়ন্ত্রণ ইমারত হিসেবে এই ভবনটি নির্মাণ করেছিলেন। জনশ্রুতি আছে শাহ সুজাও মাঝে মধ্যে এই এলাকায় আসলে এখানেই থাকতেন। এটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৫কিলোমিটার দুরে অবস্থিত। ভবনটির দৈর্ঘ্য ১১৬ফুট এবং প্রস্থ ৩৮ফুট। এতে ছোটবড় কয়েকটি কামরা ও উভয়পাশে বারান্দা ছিলো।

ভবনটির পশ্চিম দিক থেকে এটিকে একতলা মনে হলেও পূর্ব দিক থেকে এর অন্য তলাটির কিছু অংশ দেখা যায়। এই স্থাপনা গৌড়ের সুপ্রাচীন স্থাপত্যকর্মের অন্যতম একটি নিদর্শনও বলা যেতে পারে। এর একেবারে কাছাকাছি তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ ও তার পাশে এক গম্বুজ বিশিষ্ট একটি সমাধি দেখে মনে হয় এগুলো একই সূতে গাঁথা এবং একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এর প্রতিষ্ঠিত।

তথ্য সূত্র :

১. চাঁপাইনবাবগঞ্জ: ইতিহাস ঐতিহ্য, ড. মাজহারুল ইসলাম তরু।

২. উইকিপিডিয়া।

৩. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

মন্তব্য সমুহ
০ টি মন্তব্য
মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন
এই শ্রেনির আরো সংবাদ

ফিচার নিউজ