আজ বুধবার, ২৩শে অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ৮ই ডিসেম্বর ২০২১

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আরটি পিসিআর ল্যাব খুব প্রয়োজন: ডা. গোলাম রাব্বানী

মেহেদি হাসান

চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনা প্রতিরোধে দীর্ঘদিন থেকে আর টি পিসি আর ল্যাবের আবেদন জানিয়ে আসছেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর সভাপতি ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডাক্তার গোলাম রাব্বানী। 

করোনা প্রতিরোধে তিনি সরকারী হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা  দাবীর পাশাপাশি বেসরকারি সেক্টরের সমাজের বিত্তবান ও অর্থশালী লোকদের মানুষকে সদর হাসপাতালে করোনা ইউনিটে চিকিৎসা সামগ্রী ও অক্সিজেন সিলিন্ডার দেওয়ার ব্যাপারে আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন।  এবং তা বাস্তবায়ন হয়েছে বর্তমানে সমাজের গরীব দুঃখী মানুষের জন্য বিনামূল্যে তার নেতৃত্বে একটি টিম করোনা আক্রান্ত রোগীর বাসায় অক্সিজেন পৌঁছে দিচ্ছে।  ডাক্তার গোলাম রাব্বানী সম্প্রতি তিনি তার ফেসবুকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়  আর টি পিসি আর ল্যাবের খুবই প্রয়োজন এ মর্মে একটি স্ট্যাটাস দেন যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। তার স্ট্যাটাসে তিনি জানান। 

করোনা মহামারীর কবলে আজ সারা পৃথিবী। বাংলাদেশ‌ও এর বাইরে নয়।  বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জে আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়ছে এই অসুখ। করোনা গরীব বড়লোক কিছুই চিনে না। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সবাইকেই আক্রমণ করে। এমন বাস্তবতায় করোনা মহামারী থেকে বাঁচতে হলে:  

১.  করোনা প্রতিরোধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে । 

• স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে। 

• দ্রুততম সময়ের মধ্যে টিকার ব্যবস্থা করে সবাইকে টিকার আওতায় আনতে হবে।

২. রোগ নির্ণয় করে প্রতিটি করোনা আক্রান্ত রোগীকে 

• আইসোলেসানসহ দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে। 

রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে চার ধরনের টেস্ট আছে:

1. RT PCR – till now a gold standard test

2. Rapid antigen test (RAT)

3. GeneXpert

4. Antibody test

এরমধ্যে প্রথম তিনটা আমাদের এখানে করা হয়। 

 GeneXpert:

প্রতিদিন  সর্বোচ্চ ১৬ টার বেশি করা যায় না। ১০০% sensitive অর্থাৎ ১০০ শত জনের পরীক্ষা করলে সবার‌ই পজিটিভ হবে যদি রোগী হয়ে থাকে। কিন্তু এই পরীক্ষার specificity হলো ৮০% অর্থাৎ বাকি ২০% ক্ষেত্রে রোগীর করোনা  না থাকলেও টেস্ট পজিটিভ হয় (false positive)।

RT PCR :

এখন পর্যন্ত সবথেকে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা এটি । sensitivity ৬৭% অর্থাৎ করোনা আক্রান্ত হ‌ওয়া সত্বেও প্রতি ১০০ জনের পরীক্ষা করলে ৬৭ জন রোগীর ক্ষেত্রে এটা পজিটিভ হবে। বাকি ৩৭ জনের ক্ষেত্রে রোগী তারপরেও নেগেটিভ আসবে।  

আর specificity হলো ১০০% অর্থাৎ যাদের করোনা নাই তাদের ক্ষেত্রে এই টেস্ট পজিটিভ হবে না। কাজেই যারা পজিটিভ হবে নিশ্চিতভাবেই বলা যায় সবাই করোনা আক্রান্ত। কাজেই কোন জায়গার সংক্রমণের হার নির্ণয়ের জন্য এখন পর্যন্ত সবথেকে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা এটি।

এক্সপোজারের প্রথমদিকে এমনকি উপসর্গহীন অবস্থায়ও  এই পরীক্ষা পজিটিভ হয়। কাজেই ব্যাপক ভিত্তিক ভাবে এই পরীক্ষা চালু করতে পারলে একেবারেই প্রাথমিক অবস্থায় কেস নির্ণয় করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইসোলেশনে নেওয়া সম্ভব হবে যা করোনা প্রতিরোধে অতীব জরুরী। 

সমস্যা: 

• এই পরীক্ষা করার জন্য স্পেশাল অ্যারেঞ্জমেন্ট লাগে। 

• অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট এবং ভাইরোলজিস্ট লাগে। 

• ২৪ ঘন্টার আগে রিপোর্ট পাওয়া যায় না। বর্তমানে গড়ে ৩ দিন লাগে।

আমাদের এখানে কোন RT PCR ল্যাব নাই । তাই  লিমিটেড পরিসরে স্যাম্পুল সংগ্রহ করা হয়। দৈনিক একশত থেকে সর্বোচ্চ ১৫০ শতের  মত হবে। কাজেই চাপাইনবাবগঞ্জে করোনা প্রতিরোধের স্বার্থে একটি RT PCR ল্যাব  এখন সময়ের দাবি।

Rapid antigen test (RAT): 

 আমাদের এখানে ব্যাপক ভিত্তিক ভাবে করা হয় এবং সংক্রমণের হার নির্ধারণে ব্যপক ভূমিকা রাখছে । তবে পুরোপুরি নির্ভর করা উচিত নয়। কারণ সঠিক রিপোর্ট আসবেনা। সব সময় কম দেখাবে।

  এখন পর্যন্ত সবথেকে সহজলভ্য এবং সহজভাবে করা যায় এমন পরীক্ষা এটি । মাত্র আধাঘন্টার মধ্যেই পরীক্ষার রেজাল্ট পাওয়া যায়। কাজেই বেশি বেশি কেশ ডিটেকশান এর জন্য পরীক্ষাটি প্রয়োজন। তবে নির্ভরযোগ্য নয়। কারণ একজন  রোগীর দেহে ভাইরাসের লোড যখন সবথেকে বেশি বা পুরোপুরি উপসর্গ থাকে কেবলমাত্র তখনই এই পরীক্ষা পজিটিভ হয়। অন্য সময় যেমন প্রথমদিকে বা উপসর্গহীন অবস্থায় নেগেটিভ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। 

কাজেই বাছবিচার না করে ব্যাপকভিত্তিক ভাবে যদি করা হয় তাহলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নেগেটিভ রেজাল্ট আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে সমাজের সঠিক চিত্র উঠে আসবে না।

এই পরীক্ষার sensitivity  50% অর্থাৎ রোগাক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও কেবলমাত্র  ৫০ জন রোগীর ক্ষেত্রে এই পরীক্ষাটা পজিটিভ হয়। বাকি ৫০ থেকে ৫৫ জন রোগীর ক্ষেত্রে নেগেটিভ রেজাল্ট  দেয়। কাজেই বুঝাই যাচ্ছে যদি বেশি বেশি এই পরীক্ষা করে সংক্রমণের হার নির্ধারণ করা হয় তাহলে সঠিক চিত্র আসবে না। সে ক্ষেত্রে আত্মতুষ্টিতে ভুগলে ভুল হবে।

উপসংহারে বলা যায়:

 যাদের উপসর্গ রয়েছে শুধুমাত্র তাদের ক্ষেত্রেই Rapid antigen test করতে হবে।

  Rapid antigen test নেগেটিভ হলে RT PCR টেস্ট করাতে হবে এবং আইসোলেশনে থেকে রেজাল্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। পজিটিভ হলে আইসোলেশনসহ চিকিৎসা নিতে হবে এবং নেগেটিভ হলে স্বাভাবিক জীবনে যেতে হবে। তাহলেই সমাজে সংক্রমণের হার কমে যাবে।

 একেবারেই প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় করে দ্রুত আইসোলেশন এবং চিকিৎসার আওতায় নিতে চাইলে RT PCR test এর পরিসর বাড়াতে হবে, যা করোনা প্রতিরোধে অতীব জরুরী।

 কোন এলাকার রোগ নির্ণয় এবং  সংক্রমনের  চিত্র  সঠিকভাবে বা গ্রহণযোগ্য মাত্রায় উপস্থাপনের জন্য বেশি বেশি RT PCR test করতে হবে যা অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য। কিন্তু বাস্তবতা হলো চাপাইনবাবগঞ্জে কোন RT PCR Lab  নাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র কাছে চাঁপাই নবাবগঞ্জ বাসীর পক্ষ থেকে আকুল আবেদন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি RT-PCR ল্যাবের জন্য। কারণ এক বছরের বেশি হয়ে গেল করোনা আমাদের দেশে বেড়েই চলেছে। আরো কতদিন থাকবে আমরা জানি না।  তাই দীর্ঘমেয়াদে করোনা প্রতিরোধে চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি RT-PCR ল্যাব অতীব প্রয়োজন। 

সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি, করো না কে এদেশ থেকে বিতাড়িত করি।

ধন্যবাদ।

মন্তব্য সমুহ
০ টি মন্তব্য
মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন
এই শ্রেনির আরো সংবাদ

ফিচার নিউজ