আজ শুক্রবার, ৩০শে শ্রাবণ ১৪২৭, ১৪ই আগস্ট ২০২০

হুসনা কানা-৪

আম জনতার, আমাবাস্থা

বুঝো ঠ্যালা এখন! হাঁরা মানে হুসনা কানারা বেলে ‘আম’ মানে আম জনতা। আইজ তোর কি হালরে ‘আম’? তোর হালাতো জনতার থাইক্যাও খারাপ। তুই বেলে ফলের রাজা। কুনঠে গ্যালো তোর রাজত্ব। রাজার আবস্থা যে কুনু কুনু সময় প্রজার থাইক্যাও খারাপ হয় এট্যাই তার উদাহারণ। তোকে লিয়্যা এদ্দিন যারা খুব কুদ্দাকুদ্দি করছিলো তারঘে পাছাকড় দিয়্যাই এখন‘আম’ বাহির হইছে।

হাঁরঘে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম, দ্যাশ ছাড়া বিদ্যাশেও এ্যার সুনাম। এই আমের ওপরে নাইম্যা আইস্যাছে খড়োক। মইল (মুকুল) ধইর‌্যাছিলো ভালো, আমও হইয়্যাছিলো ভালো। বাগান মালিকতো আছেই, আম চাষীর‌্যা যারা বাগান কিন্যাছিলো তারাও বাগানের যন্ত-আত্তি করতে কুনু কমতি করেনি। আম বড় হইতেই শুরু হইলো ঝড়। কিছু আম ঝইর‌্যা গ্যালো। তার পর হইলো শীল পাথর আর বৃষ্টি। আমে ধইর‌্যা গ্যালো দাগ। তার পরেও যা ছিলো, কম ছিলোনা। গাছে আম ঝুলছে সেলাইগ্যা মানুষের মেজাজও ফুরফুইর‌্যা। ট্রাকের ট্রাক বাঁশ আইলো ঝুড়ি বুনাইতে। বাগানে বাগানে কুঁইড়্যা উঠলো। ৫উপজেলা মিল্যা আড়তও বসলো কয়্যাক’শো। এই আম থাইক্যাই হাঁরঘে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা হয়।

আম পাড়ার সময় হইলো প্রশাসন ব্যাইন্ধ্যা দিলেসময় যে, উমুক তারিখের আগে কেহু আম পাড়তে পারবেনা। সব কিছুরি সময় বাইন্ধ্যা দিলে কি কাম হয়। ডাক্তারেরাতো ছাইল্যা-পিল্যা হওয়ারও সময় বাইন্ধ্যা দ্যায়। কিন্তু বাইন্ধ্যা দ্যাওয়া সময়তে সব সময়কি ছ্যাইল্যা-পিল্যা হয়? আগা-পিছাও হয়। 

আরো এ্যাকটা কথা, বাংলাদেশের ম্যালা জাগাতেই এখন আম হইছে। কিন্তু আবহওয়ার কারনে অন্য জাগার আম এ্যাকটু আগেই পাইক্যা যাওয়ায় অরাই দেশের আমের বাজারটা ধইর‌্যা লিছে। আর হাঁরঘে জেলার আম আলারাকে হাপ্পু কানা হইয়্যা বইস্যা থাকতে হইছে। অন্য গ্যালা বাদই দিনু কয়দিন আগে খিরস্যা আম ৮টাকা ১০টাকা কেজি, তাও গছিয়্যা দিতে হইয়্যাছে। হামিতো দুরের কথা হাঁরঘে দাদোরাও বোধহয় কুনুদিন শুনেনি। আর এলাইগ্যাই আম বাগানীরা খালি পাছা থাবড়াইছে। ছোট খাটো বাগানীরাতো শুইত্যা গ্যালো। যারা লাখ লাখ টাকা দিয়্যা ম্যালা রকুম আমের বাগান কিন্যা থুইয়্যাছে তারা একটু আশায় আছে। গুঠি আমে মাইর খাইলেও ফজলি আশ্বিনাতে যুতি টাকাটা উঠ্যা আসে। 

হামিতো হুসনা কানা তাও হাঁর মাথাতে এ্যাকটা জিনিস ঘুরপাক খাইছে। দ্যাশে এত বড় বড় জ্ঞানী-বিজ্ঞানী-গবেষক আছে অরঘে মাথাতে কি এগল্যা আসেনা? এখানে আম গবেষণা আছে, অরা কি করছে ভালা কহোতো? মাসে মাসে বেতন পাইছে, ঠাণ্ঠা ঘরে থাকছে আর পাকা পায়খানাতে হাগছে। যেগল্যা আছে সেগল্যারি কুনু খবর নাই, অরা বেলে আমের নতুন নতুন জাইত বাহির করা লিয়্যাইহুড়াহুড়ি করছে। অরা কি চিন্তা কইর‌্যা বাহির করতে পারেনা যেনে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম আগে কিম্বা পরে সুবিধ্যা মতন সময়ে কিভাবে পাকা যায়?

শুনছি এ্যার মইধে বেলে বারঘইর‌্যাতে আম লিয়্যা কি সব পস্টি-নস্টিও হইলো। এ্যার মোজেজা যে কি হইবে তা আল্লাই জানে।

প্রতি বছরই বাগান বাড়ছে,ফলনও বাড়ছে, এট্যা মাথায় থুইয়্যা সরকারি ভাবে বাজারজাত করার এ্যাকটা ব্যবস্থা ল্যায়, তেবে আম এ্যাকটা দামী সম্পদে পরিনত হইতে পারে। খালি দেশে লয় বিদ্যাশেও এ্যার ভালো চাহিদা আছে। হাইরে আম, যারঘে আমের কুনু স্বাদ নাই তারাই দেশ-বিদেশে আম বেচ্যা কামাই কইর‌্যা লিছে। আর আমের রাজধানীর আম আলারা অরঘে ঝালাসেপুইড়্যা মরছে। এরকুম চলতে থাকলে টাকা-পয়স্যার দিক থাইক্যাতো বটেই, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের সুনামও একদিন মুইছ্যা যাইবে। 

ধানের পরেই নাকি আমে অবস্থান এখন বুঝো ব্যাপারটা। এ অবস্থার লাইগ্যা যুতি বাগান আলারা গাছ কাইট্য ইটের ভাঠায় পুড়াইতে শুরু করে তেবে গাছের সঁতে সঁতে জেলার মানুষের কাপালও পুইড়্যা কয়ল্যা হইয়া যাইবে।


লেখক- মাহবুবুল আলম, গম্ভীরা নানা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

মন্তব্য সমুহ
০ টি মন্তব্য
মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন
এই শ্রেনির আরো সংবাদ

ফিচার নিউজ